স্যাটেলাইটে আটলান্টিকের ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ত্রুটি ভেবেছিলেন !

স্যাটেলাইটে আটলান্টিকের ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ত্রুটি ভেবেছিলেন !

মহাকাশে থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের অসাধারণ একটি ছবি তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবিতে আটলান্টিক মহাসাগরের ৮ হাজার ৮৫০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে বাদামি ফিতার মতো একটি কাঠামো দেখা যায়। ছবিটি দেখে প্রথমে বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ত্রুটি আছে বলে মনে করেছিলেন। তবে পরে বাদামি ফিতার মতো কাঠামোটিকে গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট বলে চিহ্নিত করা হয়।

 

যা দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বছর এটি ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আমেরিকার উপকূলে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সাম্প্রতিক নাসা ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ভাসমান শৈবালবেল্টটি প্রায় ৫,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত, যা বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক শৈবাল গুচ্ছ হিসেবে পরিচিত। এই সারগাসাম ভাসমান অবস্থায় সমুদ্রের উপরে বিশাল স্তর তৈরি করে, যা স্যাটেলাইট থেকে সহজেই ধরা পড়ে।

 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট তৈরির পেছনে সমুদ্রের রসায়ন ও মানুষের প্রভাব রয়েছে। গত এক দশকে আমাজন, কঙ্গো ও মিসিসিপি নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার, অপরিশোধিত বর্জ্য, নগরীর আবর্জনাসহ বিভিন্ন বস্তু জমা হয়েছে। নদীগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাসও আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করেছে। এসব আবর্জনা ও রাসায়নিক পদার্থ সারগাসাম নামে পরিচিত বাদামি সামুদ্রিক শৈবালের দ্রুত বৃদ্ধিতে সারের মতো কাজ করেছে। এ ছাড়া সাহারা মরুভূমি থেকে উড়ে আসা সূক্ষ্ম ধূলিকণার কারণে আটলান্টিক মহাসাগরের লৌহ উপাদান বেড়ে যাওয়ায় শৈবালের বিস্তার দ্রুত হয়েছে।

 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতের ধরন পরিবর্তনও বিশাল এই শৈবাল কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১০ সালের দিকে নর্থ আটলান্টিক অসিলেশন স্রোতের ধরন পরিবর্তনের কারণে বাতাসের দিক ও স্রোতের গতি পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে সারগাসাম তার নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে সরে গিয়ে দ্রুত বাড়তে থাকার পাশাপাশি উপসাগরীয় স্রোত ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বায়ুর মাধ্যমে বিশাল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

স্বাভাবিকভাবে সারগাসাম শৈবাল সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মাছ, কচ্ছপ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীবনের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। তবে গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট বিশাল এলাকাজুড়ে থাকায় প্রবাল প্রাচীর ও সি-গ্রাস বেডে ঠিকমতো সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। এতে সালোকসংশ্লেষণে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি পানিতে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। ফলে গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

সূত্র: নাসা আর্থ অবজারভেটরি ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা সেন্টার ফর অরবিটাল রিসার্চ।