World Press Photo Contest 2026 এর পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ীরা
২০২৬ সালের World Press Photo Contest–এর পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ীরা হলেন:
- ‘Nepal’s Gen Z Uprising’ — Narendra Shrestha, european pressphoto agency
- ‘Aid Emergency in Gaza’ — Saber Nuraldin, european pressphoto agency
- ‘A Daughter’s Grief in Kashmir’ — Yasir Iqbal, Outlookindia
- ‘“I’m Afraid”: Afghan Women Face US Aid Cuts’ — Elise Blanchard, for TIME
- ‘A Syrian City Rebuilds, Still Divided’ — Nicole Tung, The VII Foundation, for The New York Times
- ‘Witnessing Gaza’ — Saher Alghorra, for The New York Times
- ‘Hijacked Education’ — Diego Ibarra Sánchez
পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলোতে দেখা যায়,
কাঠমান্ডুতে নেপালের সিংহ দরবারে বিক্ষোভকারীদের আগুন দেওয়া; গাজায় ময়দা পাওয়ার আশায় ত্রাণবাহী ট্রাকে উঠতে থাকা ফিলিস্তিনিরা; কাশ্মীরে গোলাবর্ষণে নিহত মায়ের জানাজায় এক তরুণীর শোকে ভেঙে পড়া; আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সুবিধা ছাড়াই নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়া; সিরিয়ার দেইর আল-জোরে পরিবারগুলোর নিজেদের ঘর পুনরায় তৈরি; গাজায় ইসরায়েলি হেফাজত থেকে মুক্তির পর নাসের হাসপাতালে পৌঁছানো ফিলিস্তিনি বন্দীরা; এবং সংঘাত পীড়িত অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষার বঞ্চনা।
দ্রষ্টব্য: প্রতিটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে কোনো সিরিয়াল নেই। সকল বিজয়ী সমানভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, নেপালের কাঠমান্ডুতে সহিংস বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়ে সরকারি কমপ্লেক্সে আগুন ধরিয়ে দিলে সিংহ দরবার আগুন ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের উপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা নেপালের তরুণদের জন্য চূড়ান্ত ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। ৮ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, যারা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটকে টিকিয়ে রাখা ব্যবস্থাকে আর মেনে নিতে রাজি নয়। মাত্র দুই দিনের মধ্যে ৭৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ বিক্ষোভকারী। হাজার হাজার মানুষ আহত হন। ৯ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী KP Sharma Oli এর পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা সিংহ দরবারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা নেপাল সরকারের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত।
‘Nepal’s Gen Z Uprising’—Narendra Shrestha-এর এই কাজটি ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতার পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সিঙ্গলস ক্যাটাগরিতে তিন বিজয়ীর একটি।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই, গাজার জিকিম ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করা একটি ত্রাণবাহী ট্রাকে উঠতে দেখা যায় ফিলিস্তিনিদের ময়দা পাওয়ার আশায়। এই সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ভাষ্যমতে “কৌশলগত বিরতি” দিয়েছিল, যাতে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে।
২০২৫ সালে গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা একটি জাতিসংঘ কমিশনের মতে গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছায় যদিও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে। মার্চ মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সহায়তা অবরোধ আরোপ করে, যা মানবিক সংস্থাগুলোর ভাষায় “ক্ষুধা কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার”। জাতিসংঘ জানায়, ২৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১,৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি খাদ্যের সন্ধানে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে বা সেখানে নিহত হন। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ৭৫% এর বেশি মানুষ এখনো ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে। আলোকচিত্রী গাজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানকার জীবন নথিভুক্ত করে আসছেন।
‘Aid Emergency in Gaza’—Saber Nuraldin-এর এই কাজটি সিঙ্গলস ক্যাটাগরিতে তিন বিজয়ীর একটি।

২০২৫ সালের ৯ মে, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে, মায়ের জানাজায় ২১ বছর বয়সী সানাম বশীর শোকে ভেঙে পড়েন। তার মা নারগিস বেগম (৪৫) গোলার আঘাতে আহত হয়ে মারা যান, যখন তারা বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকেই কাশ্মীর অঞ্চল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ, যেখানে দীর্ঘ দিনের সংঘাত চলছে। ২২ এপ্রিল ২০২৫ এ পাহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং ৭ মে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর চার দিন ধরে তীব্র সীমান্ত গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও বিমান হামলা চলে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, বহু মানুষ নিহত হয় এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, এবং দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা থামায়।
‘A Daughter’s Grief in Kashmir’—Yasir Iqbal-এর এই কাজটি সিঙ্গলস ক্যাটাগরিতে তিন বিজয়ীর একটি।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই, আফগানিস্তানের দাইকুন্ডি প্রদেশের শাহরিস্তান জেলার ওয়ারাসে গুলশামান সদ্যজাত শিশু ইয়াসমিনের মা ফাতেমার সাথে দেখা করেন।
আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত দাইকুন্ডি প্রদেশে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় গর্ভবতী নারীরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে অনেকেই বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হচ্ছেন, একটি দেশে যেখানে মাতৃ মৃত্যুর হার বিশ্বে অন্যতম উচ্চ। এই সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে দেশ জুড়ে ৪২২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ বা স্থগিত হয়েছে, যার মধ্যে ছোট কমিউনিটি ক্লিনিকও রয়েছে যেখানে একজন মিডওয়াইফ কাজ করতেন, এখন তাদের অনেকেই বেতন ও সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করছেন। তালেবান শাসনের অধীনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে; মেয়েদের প্রাথমিকের পর শিক্ষার সুযোগ বন্ধ থাকায় ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
‘“I’m Afraid”: Afghan Women Face US Aid Cuts’—Elise Blanchard-এর এই কাজটি স্টোরিজ ক্যাটাগরির তিন বিজয়ীর একটি।

২০২৫ সালের ২০ আগস্ট, সিরিয়ার দেইর আল-জোরে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে রাস্তায় ছেলে ও ভাতিজার সাথে বসে আছেন আবদেলাতিফ দাহাম আল হুম্মাদা, যেখানে পরিবারটি প্রায়ই ঘুমায়।
২০১১ সালের বিপ্লবের শুরুতে অন্যতম প্রথম বিদ্রোহী শহর এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত দেইর আল-জোর বহু বছর অবরোধ, বোমাবর্ষণ এবং বিভিন্ন পক্ষের দখলে ছিল। এই সংঘাতে শহরের প্রায় ৭৫% অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালে ইউফ্রেটিস নদী কে লাইন ধরে শহরটিকে বিভক্ত করে, একদিকে সরকারি পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (SDF) নিয়ন্ত্রন করে, যা দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও সেবায় প্রবাহ কে জটিল করে তোলে। তবুও যারা রয়ে গেছে বা ফিরে এসেছে, তারা পুনর্গঠন চালিয়ে যাচ্ছে।
‘A Syrian City Rebuilds, Still Divided’—Nicole Tung-এর এই কাজটি স্টোরিজ ক্যাটাগরির তিন বিজয়ীর একটি।

২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর, গাজার খান ইউনিসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফিলিস্তিনি বন্দীরা নাসের হাসপাতালে পৌঁছায়।
২০২৫ সালে গাজার সাধারণ মানুষ দুর্ভিক্ষ, অনাহার ও লাগাতার বোমাবর্ষণের মধ্যে জীবন কাটিয়েছে; মৃতের সংখ্যা ৭৫,০০০ ছাড়িয়েছে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর স্বস্তি আনতে পারেনি। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা যারা নিজেরাই এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করছেন, এই ঘটনাগুলোর অন্যতম প্রধান সাক্ষী। একজন আলোকচিত্রী বলেন, “চারপাশের সব কিছু আমাকে থামতে বললেও, আমি পারিনি, নীরবতা মানে আত্মসমর্পণ।”
‘Witnessing Gaza’—Saher Alghorra-এর এই কাজটি স্টোরিজ ক্যাটাগরির তিন বিজয়ীর একটি।

২০১৩ সালের ৪ জুন, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাবিতে এক স্কুলে ছাত্রীদের ক্লাস করতে দেখা যায়। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর তালেবান এই স্কুলে হামলা চালায়, মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, চরমপন্থা ও বাস্তুচ্যুতি শিশুদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। স্কুল ধ্বংস করা হচ্ছে, শিক্ষক হত্যা বা পালাতে বাধ্য হচ্ছেন, বই পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শ্রেণিকক্ষ সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩৪ মিলিয়ন স্কুলগামী শিশুর মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার বাইরে। এর প্রভাব শুধু শিক্ষায় নয়, শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও জ্ঞানীয় বিকাশেও পড়ে। ২০১১ সাল থেকে আলোকচিত্রী এই সংকটটি নথিভুক্ত করে আসছেন, এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
‘Hijacked Education’—Diego Ibarra Sánchez-এর এই কাজটি লং-টার্ম প্রজেক্ট ক্যাটাগরির বিজয়ী।
সূত্র- ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অবলম্বনে।
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)