দারিদ্র্য, শিশু এবং যৌন সহিংসতার ছবি দেখাতে এআই এর উদ্বেগজনক ব্যবহার !

দারিদ্র্য, শিশু এবং যৌন সহিংসতার ছবি দেখাতে এআই এর উদ্বেগজনক ব্যবহার !

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা চরম দারিদ্র্য, শিশু এবং যৌন সহিংসতার শিকারদের ছবি এখন স্টক ফটো সাইটগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কিছু বড় স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংস্থার যোগাযোগ ও প্রচারণায়ও ব্যবহার হচ্ছে। এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ক পেশাজীবীরা। এই নতুন প্রবণতাকে তারা ‘দারিদ্র্য পর্নো ২.০’ বলে অভিহিত করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

 

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক সংস্থা ফেয়ারপিকচারের নোহা আর্নল্ড জানান, সারা জায়গাতেই মানুষ এগুলো ব্যবহার করছে। কেউ সরাসরি এআই চিত্র ব্যবহার করছে। কেউ কমপক্ষে পরীক্ষা করছে। অ্যান্টওয়েপের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষক আর্সেনি আলেনিচেভ বলেন, এ চিত্রগুলো দারিদ্র্যের সুনির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল ভাষা নকল করছে। এতে থাকে শূন্য থালার সঙ্গে শিশু, ফাটল ধরা মাটি, স্টেরিওটাইপিক দৃশ্য। উদাহরণ হিসেবে আলেনিচেভের সংগ্রহে শতাধিক এআই- উৎপন্ন চরম দারিদ্র্যচিত্র আছে, যা এনজিও বা ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহার হয়েছে।

 

তার মধ্যে দেখা যায়, কাদা-ময়লা পানিতে শিশুরা একসাথে জড়ানো। আফ্রিকান মেয়েকে বিয়ের পোশাকে কাঁদছে। ‘ফটো রিয়েলিস্টিক কিড ইন রিভিউজি ক্যাম্প’ বা ‘এশিয়ান চিলড্রেন সুইম ইন এ রিভার ফুল অব ওয়েস্ট’ টাইপের শিরোনামযুক্ত ছবি। এসব ছবি ব্যবহার করা সহজ, অনুমতি নেয়ার দরকার নেই এবং তুলনামূলক সস্তা। ছবিগুলো আফ্রিকা, ভারত বা অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে বেসিক স্টেরিওটাইপে দেখাচ্ছে। ভুল বা অতিরঞ্জিত চিত্রগুলো প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার হলে, পরবর্তী এআই মডেলগুলিতেও পক্ষপাত বাড়তে পারে। ফ্রিপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকুইন আবেলা বলেন, চিত্র ব্যবহারের দায়িত্ব মূলত ব্যবহারকারীদের।

 

জাতিসংঘ ভিডিওতে এআই-উৎপন্ন যৌন সহিংসতার দৃশ্য দেখানোর পর তা মুছে ফেলা হয়েছে। কারণ এতে তথ্যের সততা নষ্ট হতে পারে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এ বছরের দিকে নির্দিষ্ট শিশুদের এআই চিত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা গ্রহণ করেছে, যাতে বাস্তব শিশুদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা হয়। নোহা আর্নল্ড বলেন, এখন মানুষ সহজভাবে এআই চিত্র ব্যবহার করছে। কারণ এগুলো বাস্তব মানুষ নয় এবং অনুমতিরও দরকার নেই। এনজিও কমিউনিকেশন কনসালট্যান্ট কেট কারডল বলেন, দারিদ্র্যের মানুষের ন্যায্য উপস্থাপনার জন্য যে লড়াই চলছিল, সেটাই এখন কৃত্রিম চিত্রের ক্ষেত্রে ছড়াচ্ছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। আলেনিচেভ বলেন, পক্ষপাতপূর্ণ চিত্রগুলো ওয়েবে ছড়ালে এবং পরবর্তী এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার হলে, সমাজে পক্ষপাত আরও শক্তিশালী হবে।

 

 

(দৈনিক মানবজমিন থেকে সংগৃহীত)