রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন মানব ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবি তুলেছিলেন
রোজালিন্ড এলসি ফ্র্যাঙ্কলিন মানব ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবি তুলেছিলেন—অথচ ইতিহাস থেকে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছিল তাঁকে।
ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স গঠন প্রকাশ করা সেই ছবিটি তুলেছিলেন রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন, যার গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁর অনুমতি ছাড়াই শেয়ার করা হয়েছিল।
চলুন জানা যাক তার গল্প—
রোজালিন্ড এলসি ফ্র্যাঙ্কলিন (২৫ জুলাই ১৯২০ – ১৬ এপ্রিল ১৯৫৮) ছিলেন একজন ব্রিটিশ রসায়নবিদ এবং এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফার।
রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের “ফটো ৫১” বিংশ শতাব্দীর সায়েন্টিফিক ইমেজের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হিসেবে পরিচিত। এটি ছিল এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন ইমেজ, যা স্পষ্টভাবে ডিএনএ-এর সর্পিলআকার (হেলিক্যাল) গঠন প্রকাশ করেছিল। ১৯৫২ সালে কিংস কলেজ লন্ডনের এমআরসি বায়োফিজিক্স ইউনিটের বেজমেন্টে ফ্র্যাঙ্কলিন এবং তাঁর পিএইচডি ছাত্র রেমন্ড গসলিং একসাথে এই ছবি তুলেছিলেন।
ছবির স্পষ্ট X-আকৃতির প্যাটার্নে বুঝতে আর কোনো সন্দেহ রইল না: ডিএনএ একটি ডাবল হেলিক্স।
কিন্তু এই যুগান্তকারী তথ্যটি ফ্র্যাঙ্কলিনের অনুমতি ছাড়াই তাঁর সহকর্মী মরিস উইলকিন্স ভাগ করে নেন জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে। এটাই হয়ে ওঠে তাঁদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট, যা থেকে তৈরি হয় বিখ্যাত ডিএনএ মডেল—এবং ইতিহাস তাঁদের নামেই কৃতিত্ব লিখে দেয়।
ওয়াটসন তাঁর বই দ্য ডাবল হেলিক্স-এ প্রথম ছবিটি দেখার অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন:
“ছবিটি দেখা মাত্রই আমার চোয়াল নিচে পড়ে গেল এবং হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে লাগল।”
কিন্তু তাঁর বর্ণনায় বোঝানো হয় যেন ফ্র্যাঙ্কলিন নিজেই ছবির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। আর তাই ইতিহাসের আলো পড়েছিল অন্যদের ওপর, তাঁর ওপর নয়।
ফ্র্যাঙ্কলিন ছিলেন একজন অসাধারণ এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফার। কিন্তু পুরুষ-প্রধান বিজ্ঞান জগতে তিনি বেশ উপেক্ষিত হয়েছেন, এবং আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স গঠন প্রমাণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ন তথ্য তিনি দিয়েছিলেন, কিন্তু বেচে থাকা অবস্থায় সেই স্বীকৃতি তিনি পাননি।
ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিন্স ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেন, অথচ ফ্র্যাঙ্কলিন তখন ক্যান্সারে মারা গেছেন মাত্র ৩৭ বছর বয়সে—ফলে তিনি কখনোই সেই সম্মানের জন্য বিবেচিত হননি।
তবুও কয়েক দশক পর বৈজ্ঞানিক সমাজ ধীরে ধীরে স্বীকার করতে শুরু করে যে আসলে তিনিই তুলেছিলেন সেই ছবি—যার মাধ্যমে ডিএনএ-এর গঠন এবং এর আকৃতি সর্ম্পকে জানা গিয়েছিল ।
সত্যিকার অর্থে, তাঁর নিরলস পরিশ্রম থেকেই জীববিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক আবিস্কার হয়েছিল।
(সংগৃহীত)
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)