এক মিশরীয় ফটোগ্রাফারের বিজয়ের অশ্রুর গল্প
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতোমধ্যেই এই বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ছবির মর্যাদা পেয়েছে। ছবিটির বিশেষত্ব ছিল এর আবেগঘন মুহূর্ত এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুইজন আলোকচিত্রী।
ছবিটি তুলেছিলেন ব্রাজিলের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রাইকেলভি নাটা (Rikelvi Nata)। আর ছবির মূল চরিত্র ছিলেন, ক্রীড়া আলোকচিত্রী সামাহ জিদান, একজন প্রতিভাবান মিশরীয় ফটোসাংবাদিক।
মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সেই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে, যখন টাইব্রেকারে জয় পেয়ে মিশর শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল, সামাহ নিজের ক্যামেরা হাতে আলোকচিত্রী হিসেবে, প্রতিটি মুহূর্ত ছবিতে বন্দী করতে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ শটটি দিয়ে যখন মিশরের জয় নিশ্চিত হয়, আনন্দে সামাহ’র চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। কিন্তু আবেগে ভেসে গেলেও তিনি ক্যামেরা নামাননি; বরং ইতিহাসের প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখতে ছবি তুলতেই থাকেন।
সেই সময় ব্রাজিলীয় আলোকচিত্রী রাইকেলভি নাটা তাঁর সহকর্মীর চোখের আনন্দাশ্রু লক্ষ্য করেন এবং সেই আবেগময় মুহূর্তটি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করেন। পরে ছবিটি সামাহর সঙ্গে ভাগ করে নিলে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন।
সামাহ বলেন, "আমি ক্যামেরা হাত থেকে নামাতে পারিনি। খেলোয়াড়দের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি প্রতিক্রিয়া আমাকে ধারণ করতেই হতো। কারণ এমন মুহূর্তেই ইতিহাস লেখা হয়। এটি এমন এক স্মৃতি, যা হয়তো একটি পুরো জেনারেশন আগে কখনও দেখেনি।"
ছবিটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশরের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সামাহর সাক্ষাৎকার নেয়। তারা বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান, গোলরক্ষক কোচ সাফওয়ান আল-সাঘিরসহ অনেকে সামাহ’র তোলা অসাধারণ ছবির প্রশংসা করে।
তিনি ফটো সাংবাদিক হিসেবে রোজ আল-ইউসুফ ফাউন্ডেশনে, ১৩ বছর ধরে কাজ করছেন। সেখান থেকেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। যদিও স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আলোকচিত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। কিন্তু সামাহ, রোজ আল-ইউসুফ ফাউন্ডেশনে ভিডিও সাংবাদিকতা চালুর অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই বিভাগের প্রধান হন এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
( হিপা থেকে সংগৃহীত)
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)