উপকূলের সিংহদের ছবি… এর পেছনের গল্প কি ?
প্রফেশনাল লেন্সে অনেক কিছু ধরা পরে, যা স্বাভাবিক ভাবে চোখে পড়ে না। একটি প্রফেশনাল লেন্স দিয়ে, আমাদের চারপাশের সব অদ্ভুত ঘটনাগুলো, পরিবেশের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো এবং এর ফলে জীবন ব্যবস্থার ওপর যে প্রভাব পড়ে, তেমন বিষয়গুলো আমাদের সামনে চলে আসে। এই পরিবর্তনগুলো, পরিবেশ, প্রাণীর জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন, অভিযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবও জানান দেয়।
বেলজিয়ান আলোকচিত্রী গ্রিট ভ্যান মালডেরেন, নামিবিয়ায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিংহের একটি দলকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করেছেন। তিনি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করেন, তিনি দেখেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগের আবাস স্থলের কাছে খাদ্য সংকট হওয়ায়, মরুভূমির ১২টি সিংহ তাদের স্বাভাবিক আবাস ও খাদ্যাভ্যাস বদলে নতুন খাদ্যের সন্ধানে বাধ্য হয়ে আটলান্টিক উপকূলের দিকে চলে এসেছে।
এই পরিবর্তনটি চোখে পড়া আকস্মিক ঘটনা নয়, যেহেতু তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অনুসরণ করেছেন, তাই কাছে লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি দেখেন, এই সিংহগুলো যেন নিজেদের নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে, এক নতুন বাস্তবতায়, নতুন পরিবেশে।
“স্কেলেটন কোস্ট” উপকূলের নামকরণ হয়েছে এর তীরে প্রাণীর হাড়গোড় এবং অসংখ্য জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকার কারনে। ভ্যান মালডেরেন এই তীরে যে ছবিগুলো তুলেছেন সেগুলো দেখলে, এক ধরনের অবাস্তব অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তার ছবিতে দেখা যায়, “স্কেলেটন কোস্ট” উপকূলের সামনে বালু ও আছড়ে পড়া ঢেউয়ের কাছে এক সিংহী শান্তভাবে বসে আছে, সামনে একটি সিলের মৃতদেহ পাহারা দিচ্ছে।
ভ্যান মালডেরেন এই সিংহীকে তিন বছর বয়স থেকে অনুসরণ করেছেন, সিংহীটির নাম দিয়েছেন “গামা”, যে এখন এক ভয়ংকর শিকারিতে পরিণত হয়েছে এবং এক রাতেই প্রায় ৪০টি সিল শিকার করতে পারে।
গ্লোবাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, ফটোগ্রাফার ভ্যান মালডেরেন জানান, টিকে থাকার প্রয়োজনে সিংহগুলো ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে চলে এসেছে, যেখানে তারা সিল সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করছে। দৃশ্যটি ভাবলে প্রায় অবাস্তব মনে হয়,যেন সিংহগুলো জঙ্গলের প্রাণী নয়, বরং সমুদ্রতীরের বাসিন্দা! এই সিংহগুলো তাদের পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে যে, কখনও তাদের দেখা যায় নিঃশব্দে শিকারের কাছে পৌঁছে মুহূর্তেই আক্রমণ করতে।
পৃথিবীতে প্রাণীদের অভিযোজন ক্ষমতার এটি অন্যতম বিস্ময়কর উদাহরণ আমাদের সামনে।
তথ্যসূত্র: হিপা অবলম্বনে
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)