১৬৭ কোটি রুপিতে বিক্রয় হয়ে ভারতীয় চিত্রকর্মের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

১৬৭ কোটি রুপিতে বিক্রয় হয়ে ভারতীয় চিত্রকর্মের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

১৮৯০-এর দশকে রাজা রবি বর্মার আঁকা কালজয়ী ছবি 'যশোদা কৃষ্ণ' বিশ্ব রেকর্ড গড়ল। স্যাফরনআর্টের (Saffronart) বসন্তকালীন লাইভ নিলামে এটি ১৬৭.২০ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছে, কোনো ভারতীয় শিল্পকর্মের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া শিল্পকর্ম।

 

এই ঐতিহাসিক বিক্রয় সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

নিলামের বিবরণ-

  • তারিখ স্থান: এপ্রিল, মুম্বাই।
  • নিলামের সময়: মাত্র সাত মিনিটের তীব্র বিডিংয়ের মাধ্যমে এই রেকর্ড মূল্যে ছবিটি বিক্রি হয়।
  • সংগ্রহ: এটি দিল্লির একজনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নিলামে এসেছিল। ছবিটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল ৮০ থেকে ১২০ কোটি টাকা।
  • ক্রেতা: সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর . সাইরাস এস. পুনাওয়ালা এটি কিনেছেন। তিনি এই কাজটিকে একটি "জাতীয় সম্পদ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য এটি প্রদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পূর্ববর্তী রেকর্ড-

এর আগে ভারতীয় শিল্পের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ডটি ছিল এম.এফ. হোসেনের ১৯৫৪ সালের কাজ 'আনটাইটেলড (গ্রাম যাত্রা)'-এর দখলে। এটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্রিস্টিজের নিলামে ১১৮ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

 

ছবির বিষয়বস্তু শিল্পশৈলী-

  • দৃশ্যপট: ছবিতে যশোদা গাভী দোহন করছেন এবং শিশু কৃষ্ণ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন।
  • শৈলী: রাজা রবি বর্মার সিগনেচার 'রিয়ালিস্ট স্টাইল' এবং আলো-ছায়ার সূক্ষ্ম কারুকাজ বা 'কিয়ারোস্কোরো' (chiaroscuro) কৌশলে এটি আঁকা।
  • উৎস: এটি শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের একটি বর্ণনা থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে শিশু কৃষ্ণ দুধের জন্য তাঁর মা যশোদার কাছে আসছেন।
  •  

বিশেষজ্ঞের মন্তব্য-

স্যাফরনআর্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিনাল ওয়াজিরানি এই ঘটনাকে ভারতীয় শিল্পের সাংস্কৃতিক আবেগীয় গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ডিএজি- (DAG) সিইও আশিশ আনন্দ এই ছবিটিকে 'ভারতীয় শিল্পের মোনালিসা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই রেকর্ড বিক্রয় প্রমাণ করে যে ভারতীয় শিল্প এখন কেবল নান্দনিক আনন্দের বিষয় নয়, বরং একটি শক্তিশালী 'আর্থিক সম্পদ' হিসেবেও বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত।

 

 

-ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

ছবি-বিবিসি