মালেভিচের মাস্টারপিস নাকি প্রতারণা ? ১৬৩০ কোটি টাকার চিত্রকর্ম নিয়ে বিতর্ক
বিশ্বজুড়ে আধুনিক শিল্পের আলোচনায় যে কয়েকটি নাম বারবার ফিরে আসে, কাজিমির মালেভিচ তার অন্যতম। রাশিয়ান এই শিল্পী তাঁর "ব্ল্যাক স্কয়ার" কিংবা সুপ্রিমাটিজম আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সম্প্রতি রোমানিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব কনটেম্পোরারি আর্ট (MNAC)-এ প্রদর্শিত মালেভিচ এর তিনটি তৈলচিত্রের প্রদর্শনী শিল্প জগতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। এগুলো কি সত্যিই মালেভিচের হাতের কাজ, নাকি আরেকটি জালিয়াতি কাজ ?
প্রদর্শনীর আয়োজকরা জানিয়েছেন—চিত্রগুলো প্রথমে ছিল ওডেসায়, সেখান থেকে ইসরায়েল হয়ে রোমানিয়ায় আসে। স্থানীয় এক পরিবারের কাছে বছরের পর বছর ধরে সযত্নে সংরক্ষিত থাকার পর এগুলো অবশেষে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রদর্শনীর শিরোনামও ছিল যথেষ্ট প্রতীকী— “Kazimir Malevich: Outliving History”।
প্রদর্শিত তিন চিত্রকর্ম হলো—সুপ্রিমেটিস্ট কম্পোজিশন উইথ গ্রিন অ্যান্ড ব্ল্যাক রেক্টেঙ্গল (১৯১৮), কাবোফিউচারিস্ট কম্পোজিশন (১৯১২–১৩), এবং সুপ্রিমেটিস্ট কম্পোজিশন উইথ রেড স্কয়ার অ্যান্ড গ্রিন ট্রায়াঙ্গল (১৯১৫–১৬)।
কিন্তু এখানেই শুরু হয় বিতর্ক। ইউক্রেনীয় শিল্প ইতিহাসবিদ কনস্ট্যান্টিন আকিনশা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন: ছবিগুলোর provenance বা মালিকানার ইতিহাস নিয়ে একাধিক অস্পষ্টতা আছে। প্রদর্শনীর ক্যাটালগে মালেভিচের জীবনী নিয়েও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আকিনশার মতে, প্রদর্শনীতে বলা হয়েছে মালেভিচ ১৯৩০ সালে লেনিনগ্রাদ ছেড়ে চলে যান, যা নথিপত্র অনুযায়ী সঠিক নয়।
আয়োজক পক্ষের আইনী হুমকি-
এদিকে বিতর্ককে সহজভাবে মেনে নেয়নি আয়োজকপক্ষ। e-flux নামের প্ল্যাটফর্ম ও আকিনশার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে আয়োজকপক্ষ। দাবি করা হয়েছে—এই সমালোচনা প্রদর্শনীর আয়োজকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করছে। ফলে শিল্প নিয়ে চলমান বিতর্ক এখন আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছে।
ফরাসি ও জার্মান ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, রং ও উপাদান মালেভিচের সময়কালের। তবে কাজগুলো যে আসল সেটা প্রমাণ করার মতো কোনো সনদ পাওয়া যায়নি।
বাজারের পুরনো সমস্যা-
রাশিয়ান অ্যাভান্ত-গার্ড শিল্পের বাজার আগে থেকেই নানা ভুয়া চিত্রকর্মে ভরা—এমন অভিযোগ বহুদিনের। মালেভিচের নামকে ঘিরে যেমন কোটি কোটি ডলারের বেচাকেনা হয়, তেমনি নকলের ঝুঁকিও সবসময় থাকে। ফলে এই তিনটি চিত্রকর্মকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন হলেও সমস্যাটা মোটেও নতুন নয়।
শিল্পবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালেভিচের একটি আসল ছবি ২০১৮ সালে ৮৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তাই নতুন পাওয়া ছবিগুলো সত্য হলে এর মূল্য দাঁড়াতে পারে ১৬০–১৯০ মিলিয়ন ডলার।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এগুলো আসলেই মালেভিচের কাজ প্রমাণিত হলে ছবিগুলোর বাজারমূল্য দাঁড়াবে অন্তত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা)
ছবি-সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)