ছবির পুনর্গঠন বা বিকৃতি: ফটোগ্রাফির আলোর নিচে অন্ধকার সত্য
এখনকার সময়ে একটি ছবি শুধু আবেগই স্পর্শ করে না, বরং তা একটি স্থান, একটি জাতি, এমনকি একটি ইতিহাসকে পুনর্নিমিত করতে পারে। এমন বহু উদাহরণ আছে, যে একটি ছবি কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক গুরুত্বও বদলে দিয়েছে, যে শহর বা স্থাপনা কে একসময় ভুলে যাওয়া হয়েছিল, ছবির মাধ্যমে তুলে ধরায় সেই স্থান হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। একটি ছবির শক্তির ভালো দিক যেমন আছে তেমনি আছে অন্ধকার দিক। ছবির মাধ্যমে অসত্য তথ্য দেয়ার চেষ্টা করলে, ছবি হয়ে দাঁড়ায় অসত্য বাস্তব তৈরির একটি ভিজ্যুয়াল নাট্যমঞ্চ।
ছবির বিকৃতি -
আরব ইন্ডিপেনডেন্ট-এ মোনা আবদেল-ফাত্তাহর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছবি বিকৃতির ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৮৬০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ছবি তৈরি হয়েছিল । যেখানে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল, দক্ষিণের রাজনীতিবিদ জন ক্যালহাউনের শরীরের ওপর। উদ্দেশ্য ছিল, আব্রাহাম লিংকনকে আরও মর্যাদাসম্পন্ন ও সুগঠিত মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা।

ঠিক এমনই করেছিলেন জোসেফ স্তালিন, যিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কে সরকারি ছবিগুলো থেকে মুছে ফেলতেন। এটি ছিল ইতিহাসের সত্যকে মুছে দেওয়ার এক কৌশলী উপায়।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ১৯৮২ সালের সেই বিতর্কিত ছবিটিও ভুলে যাওয়ার নয়।
ম্যাগাজিন কাভারে জায়গা ফিট করানোর জন্য, তাঁরা পিরামিডগুলোর অবস্থানই সরিয়ে দিয়েছিলেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ম্যাগাজিনটি এর জন্যে ক্ষমা চায়।
ছবি দিয়ে যুদ্ধ ও মিডিয়ার অসত্য তথ্য -
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মিডিয়াতে প্রকাশিত হয় আলেপ্পো ও দামাস্কাস শহরের ঝাঁ চকচকে আধুনিক ভবনের ছবি। সবুজে ঘেরা এই শহরের দৃশ্য দেখে যেন মানুষ ভাবে শহরগুলো ‘পুনর্গঠিত’ হয়ে গেছে।
কিন্তু বাস্তবে এ জায়গায় তখন ধ্বংসস্তুপ আর, মৃত্যুই ছিল।
প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রে এমন ফটো ম্যানিপুলেশন আরও ভয়ানক। গাজার অবরোধ, বোমা হামলা আর ধ্বংসযজ্ঞকে আড়াল করতে কিছু মিডিয়া ব্যবহার করেছে আধুনিক হোটেল ও উন্নত বিল্ডিং–এর সাজানো ছবি, যেন গাজা পুরোপুরি ‘স্বাভাবিক’ শহর !
ছবি মানেই একটি স্মারক নয়, এটি হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের সাক্ষ্যপত্র।
আর এই সাক্ষ্য যদি বিকৃত হয় — তাহলে ইতিহাসও হয়ে পড়ে ভুলে ভরা।
তথ্য সূত্র- হিপা
ছবি-সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
ফেসবুক মন্তব্য (0)